বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০০৮

জুবায়ের ভাইয়ের সাথে দেখা হলো না

মুহম্মদ জুবায়ের ভাই চলে গেছেন। কাল।
কীভাবে বিদায় জানাতে হয় জানি না। কিছুক্ষণ পরপরই যখন মনে পড়ছে, আর কোন পোস্টে কখনো লেখা থাকবে না, লিখেছেন .. মুহম্মদ জুবায়ের, দুর্বল হয়ে যাচ্ছি, ভিজে উঠছে চোখ । আর কখনো পড়া হবে না মেয়ের গল্প নিয়ে গর্বিত বাবার পোস্টগুলো অথবা সত্তরের দশকের বাংলাদেশের ঘটনা-দুর্ঘটনা নিয়ে তার স্মৃতিচারণ অথবা ধারাবাহিক উপন্যাস "চুপকথা" অথবা "পৌরুষ"। আর কখনো হালখাতা ধরে আমাদেরকে কেউ মনে করিয়ে দেবে না, সিরিজ শুরু করে শেষ না করার বকুনি খেতে হবে না আমাদের।

কখনো দেখা না হয়েও একজন মানুষের জন্যে এতোটা অনুভব - অবাক হয়ে আছি।
জানি না - আমরা কী হারালাম। ভালো থাকুন, জুবায়ের ভাই। ভালো থাকুন, যেখানেই যান।

শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০০৮

ছোট্ট আকাশের সাথে আমার বিচ্ছেদের মুহূর্ত

পৌনঃপুনিকতার তালিকায় অনেকদিন আগে নাম লিখিয়ে ফেলা জীবনের এই ছোট্ট ঠিকানায় তাও আকাশ ছিলো, ছিলো জানলা খুলে দিলে ওপারে দাড়িয়ে থাকা কয়েকটা অচিন বৃক্ষ। আমার এই বসার জায়গাটুকুর পেছনে তাকালে দেখতাম কখনো আকাশ নীল, কখনো কালো। কখনো আকাশের মন ভালো, কখনো কটমটে রাগ করা মা মেঘেরা বাচ্চা মেঘেদের নিয়ে উড়ে যেতো ওই অচিন বৃক্ষের ওপর দিয়ে।

পাখি। টিয়া। ঝাঁকে ঝাঁকে, সন্ধ্যায় ওদের ডানা ঝাপটানি ওই অচিন বৃক্ষের পাতায়-ডালে।
সব হারিয়ে যাবে, খুব তাড়াতাড়ি হলে কাল, অথবা সামনের সপ্তায়। বাড়ছে কনক্রিটের কাঠামো, হয়ে গেছে একতলা। আমার বিদ্যালয় বানাচ্ছে নতুন ভবন, যেনো ফুঁড়ে উঠছে অশ্লীলভাবে। একেবারে আমার জানলা ঘেঁষে। পুরনো কিছু ভবন ভেঙে ফেলা হবে, তার প্রস্তুতি হিসেবে এখানে গড়ে উঠছে নতুন। আমাদের আকাশকে বিসর্জন দেবার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান দেবে চকচকে নতুন ল্যাব, শ্রেনীকক্ষ এমনকি একতলায় কনভেনিয়েন্স স্টোর। বেচবে প্যাকেট লাঞ্চ থেকে শুরু করে স্লিপিং পিল।

আমি জানলা দিয়ে তাকালে আর আকাশ আমায় ডাকবে না। মায়াভরা বৃষ্টিমাখা আকাশ অথবা দুধ-সাদা মেঘ মাখানো আকাশ। দেখবো সেখানে কনক্রিটের কালো অথবা ধূসর দেয়াল। অথবা এয়ারকুলারের বেড়ে যাওয়া বাইরে থাকা অংশ। স্ট্রেসময় জীবনের বন্ধু এই ছোট্ট আকাশটুকু, তোমার সাথে বিদায়ের এই বেলায় নাগরিক মানুষ হবার দায় ও দুঃখে আমি বিব্রত। অসহায়।
বিদায় বন্ধু।