মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ২৩, ২০০৮

বিজয় এসেছে, কিন্তু যাদের জীবনে পলাশ ফোটে নি, ফোটে নি শিমুল

গত কয়েকদিন আগে বাংলা ব্লগের সবচেয়ে বড় প্লাটফর্ম বাঁধ ভাঙার আওয়াজ এর কর্ণধারেরা একটা অদ্ভূত পোস্ট দিয়ে বেশ খানিকটা হৈচৈ এর তৈরি করালেন। ১৬ই ডিসেম্বরে ওনারা ব্লগদিবস পালন করবেন, চা খাবেন, কিন্তু বিজয়ের নাম নিয়ে। ওনাদের কথা শুনে মনে হলো, বিজয়ের চেয়ে সামহোয়্যারের জন্ম বড়। তারা খুব খোঁড়া যুক্তি দেখালেন, বিজয়ের দিন যেহেতু আনন্দের দিন, কাজেই আমরা ওইদিন নাচবো, গাইবো, পান করবো। তাতে সমস্যা কোনখানে?

আমি একটা বই বারবার পড়ি। জাহানারা ইমাম এর "একাত্তুরের দিনগুলি"। ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয় এসেছে, কিন্তু ফেরে নি যুদ্ধে যাওয়া বড় ছেলে রুমি, ফেরে নি রুমির বন্ধুদের অনেকেই। মায়ের এক ফোঁটা করে অশ্রু জমিয়ে রাখা সেই ডায়রি আমি বারবার পড়ি। আর বিষাদবোধে আক্রান্ত হই।
১৬ই ডিসেম্বর আমাদের এই প্রজন্মের অনেকে হয়তো কেবল অন্য সব দিবসের মতোই আরেকটা লৌকিকতা বলে মনে করে। তারা ভুলে গেছে, এই দিনে বিজয় এসেছে, কিন্তু বাংলাদেশের কতো পরিবারে এইসব দিন বেদনা ছাড়া আর কিছু মনে করিয়ে দেয় না।

কারও কথা না শুনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে চলে সীমান্তের ওপাড়ে চলে যাওয়া ডানপিটে ছেলেটির জন্যে বসে ছিলো যে মা, তার অপেক্ষার প্রহর আজো ফুরোয় নি। হয়তো এইদিন আসলেই স্বামীর জন্যে আজো অপেক্ষায় থাকা নববধূটি আজো মনে করে, যুদ্ধ তো শেষ হলো, এই বুঝি দরজায় কড়া নাড়বে কেউ। স্বামীর মরে যাওয়ার দিনটি ভালোমতোন জানা নেই, তাই এখনো হয়তো এই দিনটি আসলে, সামান্য স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে কোরান তেলাওয়াত করে যায় কোন বিধবা। সাঁইত্রিশ বছর যে কাজ তিনি করে গেছেন নিয়ম না ভেঙে।
হয়তো সিথির সিঁদুর মুছে ফেলেছে কতো বঁধূ এই দিনে।
এই দিনটি আসার আগেই সীমান্তের ওপাড়ে শরণার্থী শিবিরে প্রাণ হারিয়েছে যে বৃদ্ধ, তার বংশধরদের কাছে হয়তো আজকের দিনটি কান্না ছাড়া আর কিছু বয়ে আনে না।


বাবার স্মৃতি ভালো করে মনে নেই সেই শিশু যার একাত্তুরে জন্ম তার বয়স আজ সাঁইত্রিশ। এই দিন আসলে সে কেনো অন্যমনা হয়ে যায়? তার দুঃখকে আমরা কি স্পর্শ করতে পেরেছি?

তাহলে, আমরা কেনো বিজয় দিবস আসলে বলবো - আমরা আজ নাচবো, আমরা আজ গাইবো? আমাদের কণ্ঠে কেনো আজ অনুরণন উঠবে- পলাশ ফুটেছে, শিমুল ফুটেছে আজ?
আমাদের সেই অধিকার আছে কি?

বিজয় এসেছে, কিন্তু যাদের জীবনে আজো সাইত্রিশ বছর পরেও পলাশ ফোটে নি, কৃষ্ঞচূড়াও নয়, তাদের সেই দুঃখকে বোঝার মতোন সাধ্য আমার, আমাদের নেই। তাই যারা বলে, বিজয়ের এই দিনে আমরা নাচবো, গাইবো গান - তাদের সাথে আমি কখনোই সহমত হতে পারি না। আমি বেদনাহত হয়ে এই বিদেশ বিভুঁইয়েও আমার ঘরে থাকা লাল-সবুজ পতাকার মাঝখানে রক্ত দিয়ে তৈরি বৃত্তের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকি।



-
এই পোস্টটি কম্যুনিটি ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ এর জন্যে লেখা
ছবি কৃতজ্ঞতা - froderik ক্রিয়েটিভ কমন্স এর আওতায় ব্যবহৃত

1 টি মন্তব্য:

saifulhasan বলেছেন...

আমারা মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ আমাদের অন্যতম প্রধান খাবার। মাছ মানে নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছের লাফা লাফি। আজ কাল তাজা বা টাটকা মাছ পাওয়া যাই না। ফরমালিন যুক্ত মাছ চারদিকে ছড়াছড়ি। আপনি কি তাজা ফ্রমালিন মুক্ত মাছ খোঁজ করছেন? তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.