বুধবার, অক্টোবর ১৫, ২০০৮

লিখতে না পারার গল্প

অনেকদিন কোন অক্ষর যোগ হয় না এই খাতায়। খাতাটা খোলাই হয় নি অনেক দিন। কেনো লিখি না? নিজের সবচেয়ে আপন জগত, নিজের সবচেয়ে বড় আশ্রয়ের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াই কেনো?

লিখতে তো পারি, ডানা ভেঙে যাওয়ার কিংবা পুড়ে যাওয়ার গল্প।
ঈশ্বরে বিশ্বাস হারানোর গল্প। মুক্তির খোঁজে পঁচা-মরা নদীর পাশ দিয়ে খালি পায়ে তেলাপোকা আর ইঁদুর চড়ে বেড়ানো নীরব রাস্তা ধরে হেঁটে যাওয়ার গল্প। কিংবা মাঝেমাঝেই বিরক্ত করা - শৈশবে ডুবে যাওয়া শহরে হাঁটু পর্যন্ত স্কুলড্রেসের খাকি প্যান্ট গুটিয়ে, ফতুয়া ভিজিয়ে বাড়ি ফেরার নস্টালজিয়া।

তাহলে বাস্তব পৃথিবী নিয়ে লিখলেই তো হয়?
অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে না পারার ব্যর্থতা, কিংবা নিজের থেকে আরো বেশি করে পুড়তে থাকা আত্মজনের বিপদে কোন কাজেই না আসতে পারার পৌনঃপুনিক বেদনাগুলোর কাছে পরাজিত হওয়ার কথকতা। নিজের প্রিয় খাতায় এইসব আসে না কেনো? তবে কি নিজের কাছ থেকে নিজেই পালিয়ে বেড়াই?

প্রতি মুহূর্তে শরীর আর মনের ভারে বৃদ্ধ হয়ে উঠি - সেইটুকু এমনিতেই বুঝি। তাতে কী হয়েছে, মনে মনে ঠিকই শব্দ সাজাই, কিন্তু ব্যস্ততা এসে লেখাগুলোকে মুছে দেয়। নিজের আত্মার আলোটুকুর বিনিময়ে দাসত্ব অর্জন করার পথে এগুতে থাকি। রোজ ঘুমুবার আগে একটা লম্বা নিঃশ্বাস নিয়ে ভাবি, কালকের রোদমাখা দিনটায় হয়তো নতুন করে জন্মাবো, নতুন করে । হয় না, পারি না। মেঘ আর বৃষ্টি এসে কাঁচকলা দেখায় আমার সে চাওয়ায়।

ঘরের মাঝখানে বড়ো বাতিটা এখনো জ্বালানো হয় না। খুব স্বাভাবিক বাস্তব চিন্তা করি, আগামীকাল সন্ধ্যেতে অথবা মধ্যরাতে ঘরে ফিরে হয়তো ওই বাতিটা জ্বালিয়ে দেবো। পারি না, কিচেনের অংশের হালকা ৩৬ ওয়াটের বাতির আবছা অন্ধকারেই ভালো লাগে, নিজের সাথে নিজের দেখা হয় না তাতে।

প্রলাপ শেষ করে ফেলবো ভেবেছিলাম। শেষ করতে পারি না। সেই পুরনো বৃত্তটা থেকে বেরুতে পারি না।

৩টি মন্তব্য:

আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন...

সেই বৃত্তেই থাকে কিছু লোক। নিজের মতো করে। আবেগ আর জেদ নিয়ে।

রাশেদ বলেছেন...

দিন দিন বিবর্ন হয়ে যাওয়াটাই হয়তো জীবন!

আনোয়ার সাদাত শিমুল বলেছেন...

এর পরের পোস্টে কমেন্ট করতে দেন। প্লিজ।

আমার সাথে বাদাম না খেয়ে কই যাইতে চান?