সোমবার, জুলাই ১৪, ২০০৮

অশ্লীল পশুর দল যখন খামচে ধরে আমার ভাইয়ের দীঘল পিঠ

ছাপ্পানো হাজার বর্গমাইল এর প্রিয় কবি, বছর পনের আগে আপনার দুর্বিনীত কণ্ঠে উচ্চারণ হয়েছিল - একবার রাজাকার চিরকাল রাজাকার। যে একাত্তরে জন্ম নেয়নি, সেও হতে পারে রাজাকার।

প্রিয় কবি, আপনি নাম পরিচয়হীন একজন নিহত মুক্তিযোদ্ধার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বন্দনায় বলেছিলেন, তুমি আমার কল্পোলোকে একমাত্র বীর। প্রিয় কবি, আজ সেই নিহত মুক্তিযোদ্ধাদের এক বেঁচে যাওয়া সঙ্গী, তার নিহত বন্ধুর, ভাইয়ের বিচারের এত্তেলা নিয়ে ঢুকে পড়েছিলো নিরস্ত্র,
ঘাতকদের রাক্ষসপুরীতে। তাঁকে হতে হয়েছে অপমানিত।

নষ্টদের অধিকারে চলে যাওয়া রাষ্ট্রের প্রধান বিচারাধিপতির দায়িত্বে থাকা বনশূয়রটি ঘোঁতঘোঁত জিভ কামড়ে কি যেন বলতে চেয়েছে। অশ্লীল ঠেকেছে আমার কাছে। আরেকটু হলে আমার দুর্মূল্যের বাজারে কেনা অতিমূল্যের চালের অমূল্য ভাত বেরিয়ে আসত গলা দিয়ে। বমি হয়ে।
ভাবছিলাম, সেই বনশূয়রটির মুখের উপরে পেচ্ছাপ করে দিই।
তলপেটের চাপ কমাই।

প্রিয় কবি, আজ নতুন কবিতা লেখার সময় এসেছে। সবকিছু নষ্টদের অধিকারে চলে গেছে আজ।
ঘোঁতঘোঁত অশ্লীল পশুর দল আজ ঢুকে পড়েছে প্রাসাদে। তারা সঙ্গম করবে, তাদের বংশবৃদ্ধি হবে, ছেয়ে যাবে পুরো রাজ্য আজ।
আমরা, যারা অসহায়ভাবে বেঁচে আছি, আমরা প্রতিদিন ভুলে যাচ্ছি, কার কাছে কোন্ ঋণে আমাদের এই জন্ম।
আমরা প্রতিদিন প্রতিনিয়তই বিশ্বাসঘাতকে পরিণত হই একটু একটু করে, আমরা প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তেই আমাদের চর্বিভরা শরীর নিয়ে আরো অশ্লীল হয়ে উঠি।

বাঁশঝাড় ডিঙিয়ে, কাদাপানিতে সাঁতার কেটে, আধাবেলা, আধাপেট খেয়ে, না-খেয়ে যে প্রিয় ভাইটি নয়মাস শত্রুর সাথে লড়েছে, যে এগারো বা বারো ডিসেম্বরে বাড়ি ফিরে তাঁর রেখে যাওয়া প্রেয়সীকে পায় নি অথবা তাঁর আদরের বোনটি কে পেয়েছে মূক আর রিক্ত অবস্থায়। তাদেরই একজন তাঁর তর্জনী দিয়ে নোংরা পশুর দলকে দেখিয়ে দেবার পরও কি আমরা ভাতঘুম দিয়ে, বিছানায় সঙ্গম ও ইডিয়ট বাক্সে জলপাই-বন্দনা উপভোগ করে অশ্লীল, অরুচিকর ঢেকুর তুলবো?

প্রিয় কবি, প্রিয় অসময়ের পয়গামবাহক প্রফেট, আমাদের এই কাপুরুষত্বকে দিব্যচোখে দেখেই আপনি কি লিখতে সাহস করেছিলেন,
সবকিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে? কুৎসিত পশুর দল যখন খামচে ধরে আমার ভাইয়ের দীঘল পিঠ, তখনও আমরা সে কোন্ রাজকুমারের আশায় বসে থাকি, যে এসে আমাদের দুঃখিনী মায়ের ভিজে যাওয়া চোখ মুছে দেবে?


--
এই কষ্টের প্রেক্ষাপটে লেখা

২টি মন্তব্য:

Patricia Howell বলেছেন...


Way cool! Some extremely valid points! I appreciate you penning this post and also the rest of the site is very good. all of craigslist

IT বলেছেন...

As I read the blog I felt a tug on the heartstrings. it exhibits how much effort has been put into this.
Final Year Project Domains for CSE

Spring Training in Chennai

Project Centers in Chennai for CSE

Spring Framework Corporate TRaining