এখানে তার থাকার কথা ছিল
এখানে তার থাকার কথা ছিল, খুব স্বাভাবিক বাস্তবতার মত ।
লম্বা ছায়াটা আছে শুধু - খুব বেশি ঘন আর গাঢ় - কিন্তু কেমন যেন মায়াবী ।
দীর্ঘ পথে বহুবার থেমে গেছি ।
টুকরো ক্লান্তিদের ঢেকে দিয়েছি ব্যস্ততা দিয়ে ।
সারাটা সময় অসহায় আকুলতা নিয়ে ,
খুঁজে ফিরেছি ছায়ার পেছনের অস্তিত্ব, মায়া অথবা অন্যকিছু ।
অথবা ভালবাসা ।
প্রায়-সন্ধের সিঁদুর-লাল আকাশটা নিজেই ।
সবকিছুকে অগ্রাহ্য করে -
যান্ত্রিক ও নস্টালজিক ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে
আটকে রেখেছি শেকলে -
নিজেকে ।

এইখানে থাকার কথা ছিল সেই ছবিটা, যেটা ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিলাম ।
খুব স্বাভাবিক ভাবেই - কোন সংকোচ ছাড়াই ।
দিনের আলো ফিকে হয়ে আসার পর বুঝতে পারলাম
মুছে গেছে জল-রং অথবা শান্ত-নীবিড় পট পুরোটাই ।
কেবল রয়ে গেছি আমি, ভূগোল-দূরত্বের টানাপোড়েন,
আর আমার পুড়ে যাওয়া আমিত্ব ।
-----
ডিসক্লেইমার : এটিকে কবিতা বলে ভুল করে বসার কোন কারণ নেই
মার্চ ৩১, ২০০৭
নির্বাসন
চেরি ফুল এর ছবি কৃতজ্ঞতা : ফ্লিকার
সময় ১ মন্তব্য
এতোদিন পরে তুমি ..
গান শুনি ।
পুরোনো গান ..
এতোদিন পরে তুমি ..গভীর আঁধার রাতে মোর দ্বারে আজ এলে বন্ধু ...
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এর সুর ও কণ্ঠ ।
"বিভাস" ছবি থেকে নেয়া, (১৯৬৪; উত্তম কুমার, অনুভা গুপ্ত)
গান সূত্র : ইউটিউব
"এতোদিন পরে তুমি "
সময় টি মন্তব্য
যা লিখি গান
একলা হতে চাইছে আকাশ ..
১.
অদ্ভুত সুন্দর একটা বাজনা বাজে - অনেকটা তিড়িং বিড়িং টাইপ ছন্দের ।
শনিবার এর রাত - সেই পরিচিত গন্ধ - মাতাল এ ভরা কামরা ।
গা সওয়া হয়ে গেছে ।
ট্রেনটা থেমে যায় - আবার চলতেও শুরু করে।
কানে বাজে - রবীন্দ্রনাথ একলা থাকেন, অশ্রুনদীর সুদূর পারে ।
আমার বোধোদয় হয় না ।
জানতে ইচ্ছে করছে না এই মুহূর্তে ।
মাথা জুড়ে আছে একটা পুরনো ছবি - আলো-আঁধারি মাখানো পটে দুটো মানুষ।
একটা ছোট বাচ্চা - বয়েস সাত অথবা ছয়- চোখেমুখে ভয়ের ছাপ ।
বড় মানুষটার পাশে গুটিসুঁটি পাকিয়ে বসে পড়া। হাতে কলা-রুটি ।
টুংটাং শব্দ চায়ের, পরের ট্রেনটা কখন আসবে সেই অপেক্ষায় দুজন একটা কাঠের বেঞ্চিতে বসে - রাশগম্ভীর বাবার সাথে সেই দুপুরে বেরিয়ে পড়া - ঠান্ডা লাগছে বোধহয় - সবুজ সোয়েটার, বুকে সাদা সাদা ফুল।
বড় মানুষটা এতক্ষণে বোধহয় বুঝতে পেরেছে ঠান্ডার ব্যাপার টা - বড় মানুষগুলো সবকিছু বেশি তাড়াতাড়ি বুঝে ফেলে - নিজের কালো চাদর টা জড়িয়ে নিজের উত্তরপ্রজন্মকে উষ্ণ করে তোলার চেষ্টা - জোর করে বাচ্চাটাকে নিজেই নিয়ে এসেছেন - ঠান্ডায় কষ্ট পাবে বলে মায়ের দোনোমোনো ভাব কে পাত্তা না দিয়ে।
আর বাচ্চাটা কি দিনদিন চুপচাপ হয়ে যাচ্ছে - নিজের থেকে কিচ্ছু বলে-টলে না - একটু ভয়ই হয়।
চাদর টা জড়িয়ে দেবার পর দ্বিতীয় প্রজন্মের উপস্থিতি আর বোঝা যায় না। ঘুমিয়ে পড়লো কি ? হবেই হয়তো - ক্লান্ত হওয়ার ই কথা ।
ট্রেনের শব্দ শোনা যায় - হঠাৎ চারপাশে মানুষ সচল হয়ে ওঠে - বড় মানুষটা ব্যস্ত হয়ে ওঠে - ঘুমে কাদা বাচ্চাটাকে আবার কোলে নিতে হবে - সেই প্রস্তুতিতে।
৩.
মাতাল লোকগুলো আজকাল ভীষণ বিরক্ত করে - মনে মনে গর-র রেগে গেলেও কিছু বলেনা নীল ইউনিফর্ম পরা লোকটা- আবার চেষ্টা করে জাগিয়ে তোলার - ধুত্তেরি , উঠ শালা - বাড়ি যা - মনে মনে বলে ওঠে ।

৪.
আমার ট্রেনটা সম্ভবতঃ থেমে গেছে ।
কে যেন ডাকছে অনেক দূর থেকে - এইটা শেষ স্টেশন - অথবা এরকম কোন একটা কিছু বলার চেষ্টা করছে সম্ভবতঃ।
কোনভাবে চোখ খুলি - ঠান্ডা করতে থাকে ।
মাফলার টা জড়াই ভাল করে - সবুজ জমিনে সাদা সাদা ফুল ।
নীল ইউনিফর্ম পরা মানুষটা জানায় -এটাই শেষ ট্রেন আর শেষ স্টেশন ।
নেমে যেতে হবে । আমি বিনয়ে মুগ্ধ হই ।
বড় মানুষগুলো কী ভাল অভিনয় করতে পারে ! লোকটার চোখে বিরক্তি অথচ মুখে বিনয় - কী অদ্ভূত মিশেল!
কী করবো ভেবে পাই না - কোথাও যাবো মনে করে তো ট্রেনে উঠিনি ।
আজ কোথাও যাবার কথা ছিল কি ?
খুঁজে ফিরি নিজের গন্তব্য ।
সবুজ জমিনে সাদা ফুল এর ঠিকানা ।
মার্চ ২৩, ২০০৭
নির্বাসন থেকে
-------
(রবীন্দ্রনাথ একলা থাকেন, অশ্রুনদীর সুদূর পারে )
একলা হতে চাইছে আকাশ .. সুমন চট্টোপাধ্যায় (কবীর সুমন) এর গান
সময় ১ মন্তব্য
দেবানি এবং ..
"উইকেটে যদি কিছু থাকে, আর আমরা টসে জিতে ওদেরকে ব্যাট করতে পাঠাতে পারি, তাহলে ভারতকে ধরে দেবানি ।"
- মাশরাফি মুর্তজা , ভারতের সাথে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ২০০৭ এর প্রথম ম্যাচের আগের দিন
----------------
ভারতকে ধরে দেবানি র খেলাটা মজা করে দেখলাম।
দাদা দের নাক উঁচু ভাব এবার যাবে।
মন্দিরা বেদী আর চারু শর্মায় ক্রিকেট বোঝে কি না - বুঝলাম না ।
বলতে ইচ্ছে করছে - তোগো ধইরা দেবানি ।
----------------
মন ভালো নেই ।
খাঁচা টা ছেড়ে বেরুতে পারছি না ।
বিক্ষিপ্ত দিন আর কিছু না-মেলা হিসেবের ভারে ক্লান্ত ।
রবি ঠাকুরেও মেলেনা মুক্তি ।
তাও শুনি ।
দীপ নিভে গেছে ..
সুমন চট্টোপাধ্যায় এর গাওয়া
সময় টি মন্তব্য
দয়াল তোমার আসল নামটা কী ..
বন্ধ্যা সময় কাটাই।
মেশিন চলে - কোন আউটপুট নাই।
খাই-দাই আর ঘুমাই । অর্থহীন সব।
জীবনের মটো - সে তো কবে গ্যাছে !
গান শুনি ..
জানিতে চাই, দয়াল তোমার আসল নামটা কী ..
সময় টি মন্তব্য
যা লিখি গান
আগুন !
নাহ, কোন চপার ওড়েনি ।
রাষ্ট্রের শাসকেরা দৌড়ে যান নি সাথে সাথে ::
আপনারা টিভি পর্দায় লাইভ দেখার সুযোগও পান নি ।
কিন্তু জানেন, আগুন লেগেছিল।
২১ জন টেঁসে গেছে।
হুঁ - টেঁসে গেছে - মরে যাওয়া অথবা মৃত্যুর জন্যে আরো কীসব শব্দ আছে - ওগুলো তো আমাদের জন্যে সংরক্ষিত।
আমাদের কসমোপলিট্যান শহরকে নোংরা করে ফেলা এইসব আবর্জনা মানুষ - ধুর, এইগুলো আবার মানুষ নাকি - যত দূর হয়, ততো ভালো।
এই যে দ্যাখেন না, শহরটা এখন কত্তো পরিষ্কার, আগে বিরক্ত লাগতো - এত নোংরা মানুষ - বিদেশী বন্ধুদের কাছে মুখ দেখানোর সুযোগ থাকতো না।
এখন ধীরে ধীরে তিলোত্তমা হয়ে যাবে আমাদের সব নগর।
আগুন লাগুক আরো, সব বস্তি সাফ হয়ে যাক - সব নোংরা।
ঈশ্বরকে ট্যাক্স তো আমরা দিচ্ছিই, আমাদের ঘর নিরাপদ - এই ব্যাপারে সন্দেহের কোন কারণ নাই।
আমরা আরো স্মার্ট হবো, কর্ণেল সাহেবের মুরগী ভাজা খাবো, সুর ধরবো - ভালবাসবো, বাসবো রে - কোন শালা রিক্সাঅলা মমিন এর কী হইসে - তাতে আমাদের কী?
সময় ১ মন্তব্য
যা লিখি রাষ্ট্র
