সোমবার, ডিসেম্বর ১৭, ২০০৭

ঘুরপাক

অনেকক্ষণ ধরে এই পাতায় শুরুটা কীভাবে করবো, সেইটুকুতেই ঘুরপাক খাচ্ছি। অনেকদিন কিছুই লিখিনা, লেখার মতো মানসিক স্বস্তিটুকু পাই না বলে। একটা চক্রের মাঝে পড়ে আছি, নিকট-অতীত আর টানেলঅন্ধকার ভবিষ্যত বিরক্ত করছে সারাক্ষণ।

এইসব কিছুর শুরু কি জুলাইয়ের শুরুতে?
আলো হয়ে ছায়া হয়ে লুকোচুরি খেলে যাওয়া - গানটা শেষ শুনেছিলাম যখন। বিশ্বাস ভাঙার যে দৃশ্যে আমি প্রায়-পাগল হয়ে চুপচাপ অন্ধকার ঘরে বসে ছিলাম পুরো একটা দিন।
অথবা আগস্টের শুরুর ভাগের কোনও এক রাতে, তারবিহীন ফোনের ওপারে শ্রদ্ধাস্পদ শিমুল অথবা আলবাব ব্যাকুল কণ্ঠে জিজ্ঞেস করেন - সৌরভ, বাবা কেমন আছেন? আমি যে রাতে ঘুমোইনি। পাথরসম আমি ছাদের দিকে তাকিয়ে পার করেছি অনেকটা সময়।
না সেটা শুরু নয়। এইসব কিছু একেকটা বিন্দু, জীবনের সাদা পাতায় একেকটা কালো বৃত্ত।

কিংবা ডিসেম্বরের শুরুতে আমি যখন কোনও এক বৃষ্টিভেজা সকালে কেএল এয়ারপোর্টে কোনও একটা কফি-শপে ঢাকার কানেক্টিং ফ্লাইট ধরবার জন্যে বসে থাকি বোধ অথবা বুদ্ধিহীন হয়ে। একটা লাল টুকটুকে শার্টের উপরে কালো সোয়েটার আর বাদামী মাফলার জড়িয়ে - এলিমেন্টারি স্কুলে পড়া আদুরে বাচ্চাদের মতোন সাজে সেজে।

অথবা দুইদিনের বিমানভ্রমণ শেষে মফস্বলে পৌঁছে আমার বাবার ইল্যুশনমাখা গল্প বলে যাওয়া বিছানার পাশে পাথরের মতোন বসে থাকা, কিংবা আমার সদ্য বিয়ে করা বন্ধুটিকে তার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেবার পর ফেরার পথে রিকশাওয়ালার না থেমে বলে যাওয়া গা শিউরে ওঠার মতো গল্প, দুদিন আগে তার এক কাছের বন্ধুকে কীভাবে ঘাতকেরা অস্ত্রাহত করে ফেলে রেখেছিলো মফস্বল শহরে নতুন তৈরি হওয়া হাইওয়ের ধারে।

সবশেষে, চারদিনের প্রায় অসহায় এক সময় শেষে দেশ ছাড়তে গিয়ে ফ্লাইট মিস করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সেল্ফ-অফলোড এর জন্যে খালাম্মা ধরনের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সামনে নতজানু হওয়া কিংবা ফেরার কানেকটিং ফ্লাইটের টিকেট ইনভ্যালিড হয়ে পড়া। এইসব ফর্মালিটিজ এর সামনে আমি দুর্বল হয়ে পড়ি ভীষণ ভীষণ। কিন্তু, সেইসব অস্থির অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তি দিতে অজানা অচেনা মানুষেরা ভালবাসার ডালি নিয়ে হাজির হয় - যে ভালবাসা আমার প্রাপ্য নয়, তাতে আমি অস্বস্তি বোধ করি। মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের এরিয়া ম্যানেজার ভদ্রলোকটি অথবা আমাকে ভীষণভাবে ঋণী করে যাওয়া এরিকসন বাংলাদেশে চাকুরি করা সেই মানুষটি, যিনি সবকিছু বাদ দিয়ে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুরো সময় ব্যয় করেছেন আমার পেছনেই।
এইসব ভালবাসায় আমার অস্বস্তি বোধ হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রিয় আত্মজনদের কষ্টের কাছে নিজেকে তুচ্ছ মনে হয়েছে, আমি পালিয়েছি নিজের কাছ থেকেই।
আত্মজনদের কাছে আমার পুনর্বার ক্ষমা চাইতে ইচ্ছে করে।
গত সপ্তায় চাকুরির ইন্টারভ্যু দিতে গিয়ে মাঝপথেই কেমন যেন বুঝতে পারি,আমাকে বোধহয় আর ডাকবেনা। তারপরে সত্যি হয়ে ওঠে সে আশংকা।

এইসবের শেষ নেই। আমার মুক্তি নেই, আমি জানি। ইনসোমনিয়া রা ঘুরেফিরে আসে, দুই বছর আগে ইনসোমনিয়াকে বিদায় জানিয়েছি মনে করেছিলাম - সেটা মিথ্যে বোধ হতে থাকে।
বর্তমানের টানেল শেষে কী আছে - সেই ভাবনাটুকু থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারিনা। সবকিছুই কি আমার জীবনের অংশ? অথবা আমি কেবল দর্শক? কিংবা এভাবে ভাবলে বোধহয় ব্যাখ্যেয় হয় প্রশ্নটা- আমিই কি তাহলে আমার দর্শক?

আমার হেঁটে চলা পথে, আমি বোধ ও বুদ্ধিহীন পাথর-মানুষে রূপান্তরের কিউতে দাঁড়িয়ে থাকি অনেক সামনের দিকে, ডাকের অপেক্ষায়।
--
ছবি কৃতজ্ঞতা

1 টি মন্তব্য:

litonhasan বলেছেন...

আমারা মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ আমাদের অন্যতম প্রধান খাবার। মাছ মানে নদী থেকে ধরে আনা তাজা মাছের লাফা লাফি। আজ কাল তাজা বা টাটকা মাছ পাওয়া যাই না। ফরমালিন যুক্ত মাছ চারদিকে ছড়াছড়ি। আপনি কি তাজা ফ্রমালিন মুক্ত মাছ খোঁজ করছেন? তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.