বুধবার, মার্চ ০৭, ২০০৭

আগুন !

নাহ, কোন চপার ওড়েনি ।
রাষ্ট্রের শাসকেরা দৌড়ে যান নি সাথে সাথে ::
আপনারা টিভি পর্দায় লাইভ দেখার সুযোগও পান নি ।

কিন্তু জানেন, আগুন লেগেছিল।
২১ জন টেঁসে গেছে।

হুঁ - টেঁসে গেছে - মরে যাওয়া অথবা মৃত্যুর জন্যে আরো কীসব শব্দ আছে - ওগুলো তো আমাদের জন্যে সংরক্ষিত।
আমাদের কসমোপলিট্যান শহরকে নোংরা করে ফেলা এইসব আবর্জনা মানুষ - ধুর, এইগুলো আবার মানুষ নাকি - যত দূর হয়, ততো ভালো।
এই যে দ্যাখেন না, শহরটা এখন কত্তো পরিষ্কার, আগে বিরক্ত লাগতো - এত নোংরা মানুষ - বিদেশী বন্ধুদের কাছে মুখ দেখানোর সুযোগ থাকতো না।

এখন ধীরে ধীরে তিলোত্তমা হয়ে যাবে আমাদের সব নগর।
আগুন লাগুক আরো, সব বস্তি সাফ হয়ে যাক - সব নোংরা।
ঈশ্বরকে ট্যাক্স তো আমরা দিচ্ছিই, আমাদের ঘর নিরাপদ - এই ব্যাপারে সন্দেহের কোন কারণ নাই।

আমরা আরো স্মার্ট হবো,
কর্ণেল সাহেবের মুরগী ভাজা খাবো, সুর ধরবো - ভালবাসবো, বাসবো রে - কোন শালা রিক্সাঅলা মমিন এর কী হইসে - তাতে আমাদের কী?

-----
ছবি কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো

1 টি মন্তব্য:

অনুভূতিশূন্য কেউ একজন বলেছেন...

মন্তব্য:বাঁধ ভাঙার আওয়াজ
--

জ্বিনের বাদশা বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৩:৫৮:২০

অসংখ্য ধন্যবাদ ব্যাপারটা তুলে ধরার জন্য ...
একটা পোস্ট দেয়ার প্রস্তুতিতে ছিলাম ... তুমি দিয়েছ দেখে অপরাধবোধটা একটু হলেও কেটে গেল ...

আসলেই, তোমার কথাটা নির্মম সত্যি ...
জনমানুষের চিহ্ন কই?
---

আবু সালেহ বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৩:৫৮:২৯

খুবই দ:খজনক ঘটনা.......
---

সালাউদ্দিন আইউবী বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৩:৫৯:২৩

১। মানবতা কত প্রকার ও কি কি?
উত্তর: এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তর আমি কখনও লিখিনি। আপনারা কেউ লিখেছেন কি?

২। আগুন কত প্রকার ও কি কি?
এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া এখন আমার কাছে পানির মতো সহজ (?) বলে মনে হয়।

উত্তর: আগুন সাধারনত দুই প্রকার। কখনও কখনও তিন প্রকারেরও হইতে দেখা যায়। নিম্মে দুই প্রকার আগুনের প্রকারভেদ আলোচনা ও উহাদের ব্যবহারিক প্রয়োগ দেখানো হইলো।

শিক্ষিত আগুন: ইহা শুধুমাত্র শিক্ষিত (ধনী ও বটে) ব্যক্তি বর্গের জন্য ব্যবহৃত হয়। ইহাতে দাহ্য মাত্রা অতি সামান্য। ইহা আয়ত্বে আনিতে সময় বেশী লাগিলেও জীবিত ব্যক্তিবর্গের তেমন ক্ষতি করিতে পারে না। এই জাতীয় আগুনে ধোয়ার পরিমান খুবই বেশী। দুর দুরান্ত হইতে দেখা যায়। এই জাতীয় আগুন বড় বড় নেত্রী বর্গকে ভাবাইয়া তুলিতে স্বক্ষম। ইহাতে কারো কারো জীবনের অনেক পাপ ধুইয়া যায় বলিয়া জনশ্রুতি আছে।
এই জাতীয় আগুনে ক্ষতিগ্রস্খ ব্যক্তি বর্গের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে (নামী দামী) ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এই জাতীয় আগুন বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সারাদিনের উপাদেয় খবরে পরিনত হয়। জনগনকে ধোকা দেয়ার জন্য অতীব জরুরী এই আগুন।
এই জাতীয় আগুন একাধিক তদন্তকমিটি গঠনে সক্ষম।

অশিক্ষিত আগুন: এই জাতীয় মূর্খ ও অশিক্ষিত আগুন সাধারনত নিন্মশ্রেনীর আদমের জন্য তৈরী ও ব্যবহার উপযোগী। ইহা সাধারনত বস্তি, গার্মেন্টস ও কাঁচা বাজারে লাগিয়া থাকে। ইহাতে অশিক্ষিত নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও কিছু জারজ (?) পুরুষের মৃত্যু ঘটে।

এই প্রকার আগুনের ধোয়া হইতে লেলিহান শিখার পরিমান বেশী হয়। এই জাতীয় আগুনে আহত বা নিহত হইলে কোন প্রকার সাহায্য সহানুভূতি আশা করা অশিক্ষিত জারজদের কাজ।

অশিক্ষিত আগুনে আপনি আহত হইলে কোন প্রকার চিকিৎসা ফ্রিতো দুরের কথা, আপনার জন্য সরকারী হাসপাতালের বারান্দাও খালি নাই। আপনার জন্য কোন টিভি চ্যানেলের ক্যাম ও মাউথপিস বরাদ্ধ নাই।

উপসংহার: উপরোক্ত আলোচনা হইতে ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, অশিক্ষিত আগুনে পোড়া দেহগুলোর স্বাস্খ্য তেমন সুবিধার নয় বলিয়া উহা টিভি চ্যানেলে সম্প্রচার যোগ্য নহে।
আহত নারী-পুরুষের চেহারা সুরতও তেমন সুবিধার নয় বলিয়া উপরোক্ত মন্তব্য প্রযোজ্য।

শিক্ষিত আগুনের দ্বারা আহত নারীর কান্না উপাদেয়, তাহার বাহু আর বক্ষ স্বাস্খবতী বিধায় শিক্ষিত পাবলিকের অভাব হয় না। নেত্রী তাহার ভাঙ্গা ঠ্যাং দুলাইয়া , পুরুষ্ঠ পাছায় ঢেউ তুলিয়া আসিতে দ্বিধা বোধ করেন না। ............................ অনেক কিছু ছিলো বলার , কিন্তু আমি অশিক্ষিত আগুনের ন্যায় গন্ডমূর্খ বিধায় আর লিখিতে পারিতেছি না। আমাকে ক্ষমা করবেন শিক্ষিত সমাজ।...................
---

তীরন্দাজ বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৩:৫৯:৪৩

আপনাকে অনুভুতিশুন্য বলবে, এ সাধ্য কার?
খুব মন ছুঁয়েছে আপনার কথা।
---

মিসকল বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৪:০০:৪৮

ভাই বড় লোকদের খবর সবাই জানতে পারে, তাই গরীবদের এ অবস্খা.................................................
---

ধুসর গোধূলি বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৪:১৫:৩৭

কিং অফ জ্বিনসের কথাটা আমাকেও বলতে হচ্ছে।
পত্রিকার পাতায় খবরটা দেখার পর থেকেই মাথার ভেতর একটা ক্ষোভ দলা পাকিয়ে উঠছে।
---

অনুভূতি শূন্য কেউ একজন বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৪:৩৩:৩৭

জিনের বাদশা, ধুসর গোধূলি
আপনাদের ক্ষোভের প্রকাশ এর অপেক্ষায় রইলাম ।

সালাহউদ্দিন আইউবী
আপনার মতো করে বলতে পারলে আরো হালকা হতাম । কৃতজ্ঞতা - এতো গভীর সমালোচনার জন্যে ।

আবুসালেহ, তীরন্দাজ, মিসকল
কৃতজ্ঞতা পড়ার জন্যে ।
মানুষের দামে কত পার্থক্য , উপরতলা র মানুষ- নীঁচুতলার মানুষ ।
ঈশ্বর এখন উপরতলায় উঠে এসেছেন - আকাশচুম্বী অট্টালিকার - সেখান থেকে পৃথিবী চালাচ্ছেন তো - তাই ।
---

সালাউদ্দিন আইউবী বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৪:৪১:৫৮

কথিত ইশ্বর বহুতল অট্টালিকার জন্য বস্তিগুলো ভালো নজর করতে পারছেন না বিধায় যত মুসিবত হচ্ছে।
---

কনফুসিয়াস বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৭ ১৪:৫৩:৫৮

আজ পত্রিকায় পড়ে খুব কষ্ট লাগলো। মানুষটার চেহারাটা দেখো.. তাকানো যায় না...
---

সাব্বির বলেছেন:
২০০৭-০৩-০৮ ০১:৪২:১২
......