রবিবার, নভেম্বর ১৯, ২০০৬

আমাদের ধর্ম-ইন্দ্রিয় ও প্রার্থনা

রাষ্ট্র বিষয়ক আরেকটি অর্থহীন লেখা - অনেকদিন ধরে ড্রাফট আকারে পড়ে ছিল - ভাবলাম, শেষ করে পোস্ট দিই

আশির দশকে একজন স্বৈরশাসক, যার নামের প্রথম অংশকে সংক্ষিপ্ত করে অনেকে হোমো নামে উল্লেখ করে থাকেন, আমাদের জন্যে রাষ্ট্রীয় ধর্মের ব্যবস্থা করেছিলেন । তিনি তার ধর্মের কতটুকু বিশ্বাস ও পালন করতেন, সেটা এখানে খুব একটা বিবেচ্য বিষয় নয় ; তবে তার চরিত্র কতটুকু উন্নত ছিল সেটা লিখে আমার এই পোস্টকে অপবিত্র করতে চাই না ।

তার আগে জলপাই বাহিনী থেকে আসা আরেকজন শাসক ধর্মনিরপেক্ষতা নামের অংশটি মুছে ফেলে ইসলামিকরণ করে ফেলেন রাষ্ট্রকে ; অপ্রাসঙ্গিক ভাষায় বললে, আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের খতনা দেয়ার ব্যবস্থা করেন ।

ইতিহাস ঘাঁটা আমার কাজ নয়, আর সে সুযোগ বা যোগ্যতা কিংবা পড়াশোনাও নেই খুব একটা ।
তবে, রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে জড়িত মানুষগুলো যে হাস্যকরভাবে ধর্মের প্রতি নিজেদের বিশ্বাস উপস্থাপনের চেষ্টা করেন - এটা নিশ্চয়ই অস্বীকার করবেন না কেউ ।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলনের নেতা, যাকে আমরা ৭৫ এ মেরে ফেলেছিলাম, তাঁর কন্যা, যিনি একই সাথে তাঁর পিতার রেখে যাওয়া দলটির প্রধানও ; নির্বাচন আসলে হিজাব-টিজাব ধরা শুরু করেন । নির্বাচনের আগে পীর-মুর্শিদ খুঁজে বেড়ান বলে রাজনৈতিক বাজারে কথাও প্রচলিত আছে ।

আর সদ্যবিদায়ী সরকারপ্রধান, কিছুদিন পরপর ধর্মীয় তীর্থভ্রমণ [ হ্যাঁ, সরকারি ও আরবীয় তেল সাম্রাজ্যের একনায়কদের রাজকীয় ব্যবস্হায় অবশ্যই] করে নিজের বিশ্বাস আমাদের সামনে তুলে ধরেন ::

আমরা বিশ্বাসীরা যারপরনাই মুগ্ধ হই আর ভোটপূজার মাধ্যমে তার প্রতিদান দেয়ার ব্যবস্থা করি । আপনার-আমার ধর্মানুভূতির ব্যবহার যে করে তারা চলে যান মসনদে :: তারপর ভুলে থাকেন আমাদের - তবে তাঁরা, তাঁদের আজ্ঞাবহ রা আমাদের ধর্মানুভূতির দিকে খেয়াল রাখেন - কেউ যেন আহত না করে বসে আমাদের ধর্মেন্দ্রিয়- সে ব্যাপারে কঠোর দৃষ্টি রাখেন ;


রাষ্ট্রীয় ধর্মের নয় এমন মানুষদের পুড়িয়ে মারা হয়, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কালো কুকুরের দল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিনা বিচারে হত্যার তালিকা লম্বা করতে থাকেন, সংবাদজীবীরাও হিসাব রাখতে পারেন না সে হত্যার, সে হত্যা ধর্মসিদ্ধ কি না - এ নিয়ে ধর্মের নামে ফেনা তুলে ফেলা বিশ্বাসীরা কেউ প্রশ্ন তোলে না ।

আমাদের পোশাক-শিল্পীরা, যাদের কল্যাণে মেইড ইন বাংলাদেশ লেখা ট্যাগ শোভা পায় প্রথম বিশ্বের মানুষের পরিধেয় পোশাকে ; সম্মান ও প্রাণ হারান বাড়ি ফেরার পথে ।
পিতা-পুত্রকে টুকরো টুকরো করে ফেলে রাখা হয় রাজধানী থেকে দূরে, আমাদের ক্যাবল টিভিতে সে দৃশ্যের ঝাঁপসা ভার্সন প্রচারিত হয় ।
আরও কত কিছু ঘটে রোজ, আমরা খবর দেখে আর পড়ে শেষ করতে পারি না ।


তবুও আমাদের কোন ইন্দ্রিয়ই আহত হয় না, হয় না আঘাতপ্রাপ্ত । শাসকরাও হন না উদ্বিগ্ন ।
আমরা কেউই বলিনা যে, এই ঘটনায় আমি মানসিকভাবে আহত হয়েছি, হ্যাঁন-ত্যান... কিংবা রাষ্ট্রের কাছে দাবি করে বসি না কোন আবদার ।
আমাদের ধর্মবিশ্বাসীরা বের করেনা কোন মিছিল, যে তাদের ইন্দ্রিয় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে -যেমনটা তারা করে সুদূরে থাকা ফিলিস্তিনীদের জন্যে ।

আর কিছু না হোক, আমাদের শাসকেরা আমাদের ধর্মানুভূতির ব্যাপারের সতর্ক থাকেন, তাই হুমায়ুন আজাদ এর রচনা নিষিদ্ধ হয়, দেশের একমাত্র পূর্নাঙ্গ বিমানবন্দরে আরবিতে স্বাগতবাণী লেখা থাকে, ইসলাম ধর্মবিষয়ক প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে উচ্চতর শিক্ষার মর্যাদা দেয়া হয় ;

প্রফেটের কার্টুন দেখে ধর্মানুভূতি আহত হয়েছে বলে কষ্ট করে রাষ্ট্রীয়ভাবে কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয় ডেনমার্ক সরকারকে । বৈদেশিক নীতিতে যতই দূর্বলতা থাকুক না কেন, আমাদের বলা-না-বলা কোন কাজে আসুক আর নাই আসুক, সে ব্যাপারে আমরা কার্পণ্য করি না । অথচ প্রতিবেশির সাথে সম্পর্কে টানাপোড়েনে কূটনৈতিক তৎপরতার প্রয়োজনীয়তা শাসকদের কাছে গুরুত্ব পায় না ।
কারণ আমাদের ধর্ম-ইন্দ্রিয় শাসকদের কাছে বেশি জরুরি ।

কিন্তু, আসল কথাটা জোরে-সোরে বলতে আমাদের ভয় করে । আমরা ভীরু আর সবকিছু ছাপিয়ে অসহায় ছা-পোষা মধ্যবিত্ত - এত জটিল সব ব্যাপার-স্যাপারে আমাদের কিছু যায় আসে না ।

আমরা একবার আ.লী. রে ভোট দিই তো - পরের বার বা.জা.দ রে - নে তোরাই ভাগ করে নে - এরকম একটা ভাব থাকে সবার মনে ।
আমরা জানি - এরা কেউই ধর্ম নিয়ে বড়-বড় কথা নির্বাচনের পর আর বলবে না - মোল্লাগিরি ইলেকশন শ্যাষ হইলে খতম

কিন্তু, ধর্মব্যবসায়ীরা তো কম যায় না - ওরা টিকে থাকে তেলাপোকার মতো - লালসালুর মজিদ এর মতো উড়ে এসে জুড়ে বসে আপনার-আমার ধর্মের রক্ষাকর্তা হয়ে দাঁড়ায় - আমাদের ধর্ম বেচে খায় । রাষ্ট্রের প্রতিনিধিপরিষদেও বসে পড়ে ।
আমার ধর্ম ইন্দ্রিয় আমার - তার জন্যে এই তেলাপোকাগুলোর দরকার আছে কি ?

প্রার্থনা করবো - তেলাপোকাদের বিনাশ হবে , আর শাসকেরা ক্ষমতায় থাকার জন্যে ধর্মের উপরে ভর করবেন না - সেই নতুন দিনের অপেক্ষায় ।

বামের ছবি : খতমে নবুয়ত আন্দোলন নামের একটি গ্রুপের আহমদিয়া দের মসজিদ ভাঙার দৃশ্য - ডেইলি স্টার থেকে নেয়া
ডানের ছবি : লালসালু, "Tree Without Roots" ; তানভীর মোকাম্মেল এর ফিল্ম থেকে

শুক্রবার, নভেম্বর ১৭, ২০০৬

যুদ্ধ-মাতা

ভাবার সুযোগ কমে গেছে ; এরকম করে ভাবলে, জোরে কথা বললে কারা যেন আমাদের ভয় দেখায় ।
৭১ থেকে খুব কি বেশি পথ ?

অমি রহমান পিয়াল এর পোস্টে এই সম্মানিতার দৃষ্টির কাছে মাথা নত করা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না । ক্ষমা চাওয়ার ভাষা আমার জানা নেই ।
ভীষণ ক্ষুদ্র মনে হচ্ছিল নিজেকে অনেকক্ষণ ।
একাত্তর এ আমার নিজের মা ও বোধহয় এমনটা বয়সের ছিলেন - আঠারো কিংবা উনিশ ।

এই ধারাবাহিক গুলো পড়তে গিয়ে বারবার চোখ ভিজে গেছে । *লিংক ১, , , ,, *
অমি রহমান এর কাছে কৃতজ্ঞতার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না ।

সূর্যের আলো দেখার সুযোগ হয়নি যে ভ্রুণের , তার আজ ভূ-খন্ডের সমান বয়স হতো :: মা অষ্টাদশ কিংবা কুড়িতে কলন্ক মাখানো সমাজের কাছে - রাষ্ট্রের স্বাধীনতা যার কাছে মূল্যহীন ।
তাঁর সম্ভ্রমহানির কথা এখনো আমরা ফিসফাস করে বলি ।

আমার জন্ম স্বাধীনতার এক যুগ পরে, আমাদের প্রজন্ম জানেনা এ দুঃখের মহাকাব্য ।

বেলা অনেক দেরি হয়ে গেছে ।
এখন আমাদের রক্তে বিদ্রোহের উদ্দামতা ডাক দেয় না ।
আমরা এখন শ্মশ্রুমন্ডিত নুরানী মুখোশের অমানুষগুলোর সাথে আলোচনায় বসি অবলীলায় ।
তারাও আমাদের কান্ডারি, নেতা, প্রতিনিধি (!)

অপরিষ্কার দাঁত মুখের কদাকার মস্তিষ্কের এই পশুগুলোর পেছনেও সাংবাদিকরা ছোটে, আমরা টেলিভিশনে তাদের উদ্ধত ভঙ্গির বক্তব্য শুনে কী করবো ভেবে পাই না ।
এখনো বোধহয় নিঃশব্দে কাঁদে কোন মা - অব্যক্ত ব্যথায় দাঁতে দাঁত পেষে কোন স্বজন ।
কতই বা বয়স হবে ?
১৮র সাথে ৩৫ যোগ করলে তো খুব বেশি হয় না ।

৭১ থেকে খুব কি বেশি পথ ?
আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা কি এই বাংলাদেশ চেয়েছিলেন ?
আমরা এখন জোরে কথা বলতে ভয় পাই ।
আমাদের এখন নরকের কীটগুলোর নোংরা মানস থেকে জন্ম নেয়া রাজনৈতিক সংগঠন কে মেনে নিতে হয় ।

৮০র দশকের কথাই চিন্তা করুন, সংবাদপত্রে এই সংগঠনটিকে প্রায় নিষিদ্ধ মনে করা হত ; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজামিকে জুতোপেটা করা হয়েছিল - ২০ এর ঘর পার করা যে কেউ ভুলে যান নি বোধ হয় ।
এখন আপনি-আমিই এদের ভোট দিই ।

এ কোন অভিশপ্ত সময় ?
পাকিস্তানি বাহিনীর যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবি করে আপনি কী করবেন ?
কুকুর-হায়েনারা এখন আপনার ঘরেই - সূচ হয়ে ঢুকেছে, ফাল হয়ে বেরুনোর অপেক্ষায় ।


:: *ছবির কপিরাইট সম্পর্কিত তথ্য পরবর্তীতে সংযোজন করবো *

শুক্রবার, নভেম্বর ১০, ২০০৬

ঔদ্ধত্য


"আমার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নিয়ে মহলবিশেষের মন্তব্য অনভিপ্রেত ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে হস্তক্ষেপের সামিল ।"

-- ইয়াজউদ্দিন আহমেদ,গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

----------------------------------------------

একটু ঔদ্ধত্য করেই ফেলি ।

রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে কথা বলায় নাকি কিসব নিষেধ-টিষেধ আছে , তারপরও ।
মাননীয়, আপনার ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বেতন কি আপনি নিজের পকেট থেকে দেন নাকি ?
আমরা বেতনও দেবো, আবার কথা বললে ধমকও দেবেন, এতো ভারি মজার ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে ।



:: ছবিটা অপ্রাসঙ্গিক নয়, তবে কপিরাইট এই ভদ্রলোকের

বুধবার, নভেম্বর ০১, ২০০৬

আপনারা এবং ১১ ফেরেশতা !

বাংলাদেশের সংবিধান কি-ওয়ার্ড দিয়ে আপনি গুগলে ঢুঁ দিয়ে খুব একটা কিছু পাবেন না ।
এখনো ইলেকট্রনিক পৃথিবীতে আমাদের রাষ্ট্রীয় কিংবা জাতীয় তথ্য খুঁজে পাবার মত সময় আসেনি । গত সামারে একটা অনুবাদ জাতীয় কামলা খাটতে গিয়ে সংবিধান বা রাষ্ট্রনীতি নিয়ে বেশ লম্বা সময় সার্চ দিয়েও কাজে লাগার মত খুব একটা ফল পাইনি ।

সে যাইহোক, তাতে কিছু যায় আসে না ।
উল্টো, আজকাল সবই দুটো-একটা সার্চ দিয়েই কিছু একটা বের করে ফেলা বিরক্তিকর মনে হয় ।
ডিজিটাল বৈষম্য কিংবা এই জাতীয় কোন জটিল বিষয় নিয়ে আমার লেখাটা অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করি টাইপের ব্যাপার-স্যাপার হয়ে যেতে পারে :: কাজেই সেই ব্যাপারে এখানেই ফুল স্টপ দিই ।

এবার আসল কথায় আসি ।
গত কয়েকদিন ধরে এই শব্দটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে বা কানে বাজছে - সংবিধান - আমাদের জনমানুষের শতকরা ৯৯.৯ ভাগই জীবনে চোখ দিয়েও দেখেন নি কিংবা ব্যাপারটার অর্থই বুঝেন না শতকরা ৭০-৮০ ভাগ- এরকম একটি জটিল বিষয় । নির্বাচন চালানোর প্রধান ফেরেশতা ঠিক করার জন্যে সংবিধানে কত নম্বর সংশোধনীতে কী লেখা আছে - নেহায়ত পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষার্থী না হলে কেউ জানেন বলে আমার মনে হয় না ।

ইদানীং আমার ঘুমুতে বেশ ভোর হয় - ততক্ষণে টিভিতে ভোর চারটার ঘুমজাগানিয়া খবর শুরু হয়ে যায় -বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, জাপানীদের সেনস অব হিউমার খুব একটা খারাপ না হলেও ভোর চারটার সেই অনুষ্ঠানটির নাম সেই রকমই একটা কিছু, সুন্দরী উপস্থাপকরা বেশ ভয়াবহ হাসিমুখ নিয়ে মজার সব খবর নিয়ে হাজির হন - ভোরবেলা ওঠা মানুষগুলোর মন ভালো করে দেয়ার জন্যে বোধহয় ।

সেটা গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যাপার নয় যদিও - হঠাৎ দেখলাম একটা বাংলাদেশ বাংলাদেশ টাইপের ফুটেজ ভেসে উঠছে - একটা লোককে সবাই ঘিরে ধরে পেটাচ্ছে - বাঁশ জাতীয় কিছু একটা দিয়ে পেটানো হচ্ছে - ভালো করে বুঝে ওঠার আগেই খবরটা শেষ হয়ে যায় । সুন্দরী উপস্থাপককে বেশ ব্যথিতই মনে হলো এক মুহূর্ত ।

আজকে ইউটিউব ঘাটতে গিয়ে পেয়ে গেলাম সেই দৃশ্যটা । হ্যাঁ, সুস্থ মানুষের দেখার উপযোগী নয় অবশ্যই ।

সেই অসহায় মানবসন্তানটিকে শিবি×কর্মী হিসেবে দাবি করেছে কয়েকজন ব্লগার সামহোয়্যার-ইন -এ- আমি সামহোয়্যার-ইন -এ লিখিনা - কারণ আমরা বাঙালিরা খুব সহজেই একটা প্লাটফর্মকে মাছের বাজার করে ফেলতে দেরি করি না - আর বাজাদ কিংবা বাআলী টাইপের একটা স্ট্যান্স নিয়ে লড়াই শুরু করে দিই ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে জা×য়াত শিবি× কে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও ঘৃণা বোধ করি - ধর্মের দোহাই দিয়ে ভন্ডামি, আমাদের রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধিতা এবং মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা - সবমিলিয়েই এ ঘৃণা । একই সাথে আশংকাও বোধ করি না - তাও নয় - কারণ এরা ভীষণ সুসংগঠিত এবং বুদ্ধিমান - ইন্টারনেট এর মত একটা শক্তিশালী মাধ্যমেও যে এরা কম যায় না - এটা নিশ্চয়ই বলে দিতে হচ্ছে না ।

কিন্তু, সেই মানুষটি - হ্যাঁ সেই অসহায় মানুষটি - কোন্ দলের কিংবা আসলেই রাজনীতির সাথে জড়িত কি না - এটাও নিশ্চয়ই প্রশ্ন তোলার মত কোন বিষয় নয় । একজন মানুষকে একদল শ্বাপদ ঘিরে ফেলেছে - সে হিন্দু বা খ্রিস্টান বা নাস্তিক, উত্তরপন্হী কিংবা দক্ষিণ - কিচ্ছু যায় আসে না আমার । উল্টোপাল্টা কথা বলা শেখ হা×না র ভক্ত কি না কিংবা এক দশক আগে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডে অবাঞ্চিত ঘোষিত হওয়া নিজা× এর কথায় ওঠবস করতো কি না - এটাও বিবেচ্য নয় ।

একজন মানুষ, তার জীবনের শেষ কটি ক্ষণ - সেই জিনিষ নিয়ে আপনারা গবেষণা করছেন - আপনারা মাৎস্যন্যায় এর এই যুগের জন্যে উপযুক্ত মানুষ ।

আরো বেঁচে থাকুন আপনারা - এইসব অসহায়ের অভিশাপ মাথায় নিয়ে ।
আর হ্যাঁ, আপনারা পছন্দমতো বাকি ১০ জন ফেরেশতা পেয়ে গেছেন আজ - আপনাদের সংবিধান রক্ষা হয়েছে ।
অভিনন্দন আপনাদের ।
সবার মঙ্গল হোক - এই কামনা করছি ।

-----
*
বাঁধ ভাঙার আওয়াজ এর জন্যে লেখা, প্রকাশ লিংক এখানে